আপনার LED/LCD টিভির যত্নে ৫টি টিপস

Posted in: Uncategorized Mar, 20 2015 | Comments

সুন্দর এবং স্বচ্ছ ছবির জন্য এলইডি বা এলসিডি টিভির তুলনা নেই। কিন্তু এটাও ঠিক যে, এলইডি বা এলসিডি টিভির দামটাও একটু বেশীই। আর এই বড় একটা দাম দিয়ে কেনা টিভি অল্প কয়েক বছরেই পাল্টাতে হবে, এমনটাও নিশ্চয়ই কেউ চায় না। আর তাই এমন অপ্রত্যাশিত ব্যাপার এড়িয়ে টিভি যাতে ভালো থাকে অনেক বছর ধরে, তার জন্য ব্যবহারকারীকে তার টিভি ভালোভাবে বুঝে যত্ন নেয়ার জন্য দেয়া হল কিছু টিপস :

যখন কেউ দেখছে না, তখন টিভি বন্ধ রাখুন

এটা একটা খুবই সাধারণ কমন সেন্স এর কথা মনে হতে পারে, তবে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন অনেকেই দিনের একটা বড় সময় ধরে এমনি এমনিই টিভি ছেড়ে রেখে দেয়। দেখা যায় অনেক ব্যক্তিই হয়ত অন্য কাজ করছে, কিন্তু ব্যকগ্রাউন্ডে শুধু শুধু টিভি চালিয়ে রাখে। আপাত দৃষ্টিতে কিছু মনে না হলেও, টিভি কিন্তু ঠিক ইলেক্ট্রিসিটি কনস্যুম করছে। একটি এলইডি/এলসিডি টিভির ডিসপ্লে ব্যাকলাইট গড়ে সাধারণত ৬০,০০০ ঘণ্টা ভালোভাবে সার্ভিস দিয়ে থাকে। কিন্তু ভাবুন, আমরা যদি দৈনিক ৩ ঘণ্টাও শুধু শুধু না দেখে টিভি ছেড়ে রাখি তাতেও বছরে ১,০০০ ঘণ্টার উপরে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যায় টিভি ছেড়ে রাখা হয় ৩ ঘণ্টারও অনেক বেশী। তাই যখন কেউ এলইডি/এলসিডি টিভিটি দেখছেনা তখন তা সিমপ্লি বন্ধ করে রাখাটাই হল টিভির দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার সবথেকে সহজ উপায়। আর এতে আপনার বিদ্যুৎ বিলটাও কিন্তু সাশ্রয় হচ্ছে।

ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রন

সাধারণত টিভি যে শোরুমগুলো থেকে কেনা হয়, সেগুলো অনেক ভালোভাবে বেশী করে আলোকিত করা হয়ে থাকে। তাই দেখা যায় এলইডি/এলসিডি টিভির ব্রাইটনেসও বাড়ানো থাকে। আপনার বাসা সাধারণত এত বেশী আলোকিত থাকেনা, তাই টিভির ব্রাইটনেস লেভেল অ্যাডজাস্ট করতে হয়। টিভিকে খুবই উচ্চ ব্রাইটনেস লেভেলে চালালে তার জীবনদৈর্ঘ্য অর্ধেক এ নেমে আস্তে পারে, এমনটাই প্রতীয়মান হয়েছে গবেষণায়। এলইডি বা এলসিডি টিভি ক্রয়ের পরই আপনার বাসার রুমের সাইজ ও আলোর অবস্থা বুঝে টিভির সেটিংস থেকে ব্রাইটনেস লেভেল অ্যাডজাস্ট করুন। এই সামান্য পরিবর্তনেই দেখবেন আপনার টিভি পরিষ্কার ও সুন্দর ছবি দেখাবে বছরের পর বছর।

কন্ট্রাস্ট ফাংশন অ্যাডজাস্ট করা

কন্ট্রাস্ট হল সেই ফাংশন যা এলইডি বা এলসিডি টিভির উজ্জলতম ও গাঢ় রঙের মধ্যের পার্থক্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রন করে। কন্ট্রাস্ট যত বেশী হবে, টিভি তত বেশী পাওয়ার কনস্যুম করে। আর এতে টিভির স্থায়িত্বও কমে যায়। শোরুমগুলোতে সাধারণত এলইডি আর এলসিডি টিভির কন্ট্রাস্ট সেটিংস “ডায়নামিক (Dynamic)” বা “ভিভিড (Vivid)” দেয়া থাকে টিভির সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য। তবে আল-ঝলমল শোরুমগুলোতে এইভাবে থাকলেও বাসাতে এই সেটিংস রাখার কোন মানে নেই, কেননা এভাবে রাখলে তা টিভির এলইডি ব্যাকলাইটকে দ্রুত নিঃশেষিত করে। এর জন্য, এলইডি বা এলসিডি টিভির সেটিং “স্ট্যান্ডার্ড (Standard)” এ রাখুন। এই সেটিং এ টিভি সবথেকে কম এনার্জি কনস্যুম করে এবং টেকেও অনেক বেশীদিন।

ভোল্টেজ রেগুলেটরের ব্যবহার

শুধুমাত্র এলইডি বা এলসিডি টিভিই ঘরের একমাত্র ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নয়। এসি, রুম হীটার, রেফ্রিজারেটর আরও অনেক কিছুই আছে যা ইলেক্ট্রিসিটি দিয়ে চলে। এতে অনেক সময় পাওয়ার ঘাটতি হতে পারে, যা এলইডি/এলসিডি টিভির পাওয়ার ক্যাপের জন্য অনেক ক্ষতিকর। হটাত করে পাওয়ার বেঁড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া টিভি নষ্ট করে দিতে পারে। এজন্যই টিভির সাথে ব্যবহার করতে হবে একটি ভোল্টেজ রেগুলেটর, যা পাওয়ার কমে গেলে প্রয়োজনীয় পাওয়ার সাপ্লাই করে আর পাওয়ার অযাচিতভাবে বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রন করে। শুধু তাই নয়, আবহাওয়া বিপর্যয় যেমন ঝড় বা বজ্রপাতের সময়ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিপদজনক অবস্থাতে এই ভোল্টেজ রেগুলেটর টিভি কে নিরাপত্তা দেয়।

যথার্থ ভেন্টিলেশন

এটা আমরা ভালো করেই জানি যে এলইডি/এলসিডি টিভি অনেক পাওয়ার কনস্যুম করে। আর এই পাওয়ার থেকে উৎপন্ন হয় অত্যাধিক তাপ। আর এই তাপকে নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রয়োজন যথার্থ ভেন্টিলেশন বা মুক্ত বায়ুচলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। অনেকেই যথার্থ পর্যাপ্ত বায়ুচলাচলের জায়গা না রেখেই টিভি রুমে স্থাপনের ভুলটি করে থাকেন। আর টিভির চারপাশে এই পর্যাপ্ত বায়ুচলাচলের জায়গা না থাকায় বিঘ্নিত হয় ভেন্টিলেশন সিস্টেম, যার ফলে এলইডি/এলসিডি টিভিও খুব বেশীদিন ভালো সার্ভিস দেয় না বা টিকে না।
টিভির ভেন্টিলেশন ভেন্ট এর চারপাশে নুন্যতম চার ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দিয়ে টিভি বসাতে হবে। ফ্ল্যাট প্যানেল এর টিভি হলে এবং তার ভেন্ট পিছনে হলে তা যাতে দেয়ালের সাথে লেগে না থেকে নুন্যতম চার ইঞ্ছি দূরে থাকে এমনভাবে কোন টেবিল বা টিভি স্ট্যান্ডে বসাতে হবে।

এলইডি বা এলসিডি টিভির পিকচার কোয়ালিটির জন্য এর বড় দামটাও মেনে নেয়া যায়। শুধু মেনে নেয়া যায় না, যদি অযত্ন ও অসাবধানতা বশতঃ টিভি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই টিপসগুলো মেনে তো চলতেই হবে টিভির দীর্ঘায়ুর জন্য, আবার সাথে এটাও অবশ্যই খেয়াল রাখুন যে কন্ট্রাস্ট ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করতে যেয়ে টিভির পিকচার কোয়ালিটি যাতে মান না হারায়।

আর্টিকেলটি ভাল লাগলে লাইক করুন, শেয়ার করুন। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।