ঘরে বসেই শুরু করুন নিজের ই-কমার্স ব্যবসা (পর্ব ১)

ecommerce

বাংলাদেশে ই-কমার্স এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। শহর ও মফঃস্বলের গ্রাহকদের মধ্যে দিন দিন যেমন অনলাইন কেনাকাটার আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি তরুণ উদ্দক্তাদের মধ্যেও ইকমারস ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। আবার অন্যদিকে আগ্রহ থাকলেও অনেকেই কিভাবে প্রথম কদমটা নেবেন, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না বলে শুরু করা হয়ে ওঠে না। এই সিরিজটি আপনাদের জন্যই। আমরা দেশের প্রথম দিককার কয়েকজন ই-মার্কেটারের সাথে কথা বলে আপনাদের জন্য “ঘরে বসেই শুরু করুন নিজের ই-কমার্স ব্যবসা” ধারাবাহিক সিরিজটি শুরু করেছি। এই সিরিজে আপনারা যা যা জানতে পারবেনঃ

১। ই-কমার্স বিজনেস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা যা আপনাকে ঝেড়ে ফেলতে হবে (পর্ব ১)
২। কাস্টমার নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে থাকা ও প্রাথমিক প্ল্যানিং (পর্ব ২)
৩। নাম নির্বাচনের কিছু বাস্তবমুখী টিপস (পর্ব ৩)
৪। সাইট বানাতে কি কি লাগবে ও শুরুর খরচ (পর্ব ৪)
৫। প্রোডাক্ট পাবেন কোত্থেকে? ডেলিভারি দেবেন কি করে? (পর্ব ৫)
৬। কিভাবে মার্কেটিং করবেন, কিভাবে সেল বাড়াবেন? (পর্ব ৬)
৭। কখন বুঝবেন “নেক্সট স্টেপ” নেয়ার সময় চলে এসেছে (পর্ব ৭)

এই পর্বে আমরা ই-কমারস নিয়ে কিছু কমন ভুল ধারণা বা “মিথ” নিয়ে কথা বলব। এই মিথ গুলো কাঁটিয়ে উথতে পারলে, সাফল্য হবে আপনারই…

আমি একাই পারবো

প্রাথমিক চিন্তায় অন্যান্য বিজনেসের চেয়ে ই-কমার্স বিজনেসটাকে তুলনামূলক সহজ, কম কাজের ও কম খরচের মনে হতে পারে (এবং কিছু ক্ষেত্রে আসলেও তাই)। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আপনাকে এখানে প্ল্যানিং এর পাশাপাশি টেকনিকাল সাইড, কাস্টমার কেয়ার (খুব জরুরি), প্রোডাক্ট সংগ্রহ (সবচে বড় চ্যালেঞ্জ), প্রোডাক্ট প্যাকিং ও ডেলিভারি, রিসার্চ ও মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। একদম শুরুর দিকের কয়েকটা সপ্তাহ গেলে, যদি না আপনি অসাধারণ কর্মক্ষম ব্যক্তি হন, অন্যের সাহায্য আপনার লাগবেই। বাসায় বসে করলেও কোন এমপ্লয়ি বা পার্টনার আপনার লাগবে না, এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

বাসায় বসে আরাম করে টাকা কামাবো

আরাম করতে চাইলে আসলে বিজনেস বাদ দিয়ে অন্য কিছু করাটাই ভাল। চাকরিতে আপনার একটা নির্দিষ্ট ওয়ার্কিং আওয়ার থাকবে, শুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকবে… কিন্তু নিজের বিজনেসের পুরটাই কিন্তু আপনার নিজের, তাই মাথা-ব্যাথাটাও একটু বেশি। অফিস আওয়ার বলে আসলে কিছুই থাকবে না, রাত দিন আপনাকে কাজ করতে হবে… অন্তত পক্ষে শুরুর কয়েকটা বছর। টাকা আপনি যেখান থেকেই কামান না কেন, তার জন্য আপনাকে খাটতে হবেই।

এমপ্লয়ি কাজ করবে, আমি তদারকি করব

একটি স্টার্ট-আপে এমপ্লয়ি আর বস বলে আলাদা কিছু থাকে না। আপনাকেও আপনার এমপ্লয়ির সাথে বসে রেগুলার কাজ করতে হবে। নইলে ব্যবসা ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মনে রাখবেন, বড় একটা অফিসে সব কাজের, ফাইলিং আর রিপরটিং এর একটা প্রচলিত কাঠামো থাকে। কিন্তু আপনার উদ্যোগটা নতুন… তাই সব বিষয়ের যেমন নির্দিষ্ট কাঠামো থাকবে না, তেমনি আপনার মানেজমেন্ট অভিজ্ঞতাতেও ঘাটতি থাকতে পারে। তাই শুরুতেই সব কিছু এমপ্লয়ির উপর ছেড়ে না দিয়ে, নিজেও প্রচুর কাজ করুন। পুরো প্রসেসটা আগে নিজের আয়ত্তে আনুন… তাহলে পরে এমপ্লয়ি ফাকি দিলে আপনি সহজে সেটা টেক-কেয়ার করতে পারবেন।

অফিস লাগবে না, বাসা দিয়েই হবে

হ্যা, প্রথম দিকে বাসা দিয়ে হবে, কিন্তু পরে আপনার একটা অফিস লাগবেই। আপনার বিজনেস চলা শুরু করলে দুই এক মাস গেলেই দেখবেন ভেন্ডর আর এমপ্লয়িদের সাথে দিনে অনেক মিটিং করতে হচ্ছে। দৈনিক অর্ডারের সংখ্যা ১৫-২০ টা হয়ে গেলেই দেখবেন বাসায় বসে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া, ফ্যামিলি মেম্বারদের পাশে বসে প্রফেশনাল কাজ করাটা একটু কঠিন। অফিস নিলে কাজেও তাগিদ আসবে, ভেন্ডররাও আপনাকে মূল্যায়ন করবে। ছোট স্কেলে করতে চাইলে বাসা ঠিক আছে, কিন্তু আপনি যদি একটু বড় করে চিন্তা করেন, আজ হোক, কাল হোক অফিস নিতেই হবে। তাই অফিস নেয়ার চিন্তাটি মাথায় রাখুন।

কিছুদিন দেখি…

“কিছুদিনে” কোন প্রফিট হবে না। এক্সেপ্সনাল কিছু না হলে আপনাকে ৬-১২ মাস শুধু টাকা বিনিয়োগই করে যেতে হবে। প্রথমে আপনার একটা “নাম” তৈরি করতে হবে, এরপর কিছু প্রফিট আসতে পারে। এখন মার্কেটে অনেক কম্পিটিশান, তাই আপনাকে ধৈর্য আর বুদ্ধি নিয়ে এগুতে হবে। মোট কথা, আপনাকে মন প্রান দিয়ে লেগে থাকতে হবে। ই-কমার্স একটি লাভজনক ক্যারিয়ার, কিন্তু আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। তবে বলে রাখা উচিত, এমন অনেক ই-কমার্স সাইট আছে, যারা প্রথম মাস থেকেই প্রফিট করে… কিন্তু সেটা ছোট পরিসরে। আপনি কি বড় করে চিন্তা করছেন? নাকি ছোট?

আমার অনেক ফ্রেন্ড, ওরাই আমার মার্কেটিং করে দেবে

এটা যদি আপনি সত্যিই বিশ্বাস করে থাকেন, তাহলে সামনে আপনার মন খারাপ হতে বাধ্য। বন্ধুরা আপনাকে মরাল সাপোর্ট দিতে এবং আপনার ফ্যান পেইজে প্রথম ৫০-১০০ টা লাইক এনে দিতে পারবে। কিন্তু তারপর যা করার আপনাকেই করতে হবে। বন্ধুকে বন্ধুর যাগায় আর ব্যবসাকে ব্যবসার যাগায় রাখবেন… দুটোই ভাল থাকবে।

ই-কমার্স হবে আমার সাইড বিজনেস

উপরের সব গুলো পয়েন্ট পড়ে থাকলে এটা নিশ্ছই বুঝতে পারছেন যে চাকরির পাশাপাশি এই বিজনেস চালানো একটু কঠিন। এই ক্ষেত্রে ভাল করতে চাইলে, আপনাকে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে হবে।

এতক্ষণ ধরে খালি ভয় দেখালাম। কিন্তু ভয় পাবেন না, আপনি একজন উদ্দক্তা… ভয় আর অনিশ্চয়তাকে বুদ্ধির চালে হারিয়ে আপনি এগিয়ে যাবেন। আগেই বলেছি, ই-কমার্স একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র… আপনি লেগে থাকলে আপনার সাফল্য আসবেই।

এই পর্বটি ভাল লাগলে সিরিজের পরবর্তী পর্ব “কাস্টমার নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে থাকা ও প্রাথমিক প্ল্যানিং” পড়ার আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

আর্টিকেলটি ভাল লাগলে লাইক করুন, শেয়ার করুন। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।