১১ টি স্টেপএ গড়ে তুলুন ব্যক্তিগত লাইব্রেরি- শৌখিন পাঠকের মনের খোরাক

Posted in: Crafts & DIY, Miscellaneous Nov, 22 2014 | Comments

বইয়ের প্রতি তীব্র নেশা আমাদের অনেকেরেই থাকে। সেই নেশা থেকেই আমরা গড়ে তুলি বইয়ের বিশাল সব সংগ্রহ। বইয়ের জন্য পা ফেলা যায় না, এমন হয়ে থাকে প্রায় অনেকের বাড়িতেই। কিন্তু যত্র-তত্র এভাবে বই ফেলে রাখাটা আসলে কোন কাজের কথা না। এতে বইয়ের সংরক্ষণ যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি বই পড়ার উপযুক্ত একটি পরিবেশ ছাড়া ঠিক জমেও না। শান্ত-নীরব এক কোণে বসে সাহিত্যের জগতে ডুবে যাওয়ার মধ্যে যে প্রশান্তি রয়েছে, তা পাবার জন্যে বাড়িতে ছোট একটি লাইব্রেরি তৈরি করে নেয়াটাই বোধ করি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তাছাড়া বাড়িতে একটি ছোটখাটো লাইব্রেরি থাকার মানে হচ্ছে ঘরের সৌন্দর্য আর আভিজাত্য শতগুণে বেড়ে যাওয়া। চলুন দেখে নিই নিজের বাড়িতেই একটি ছোট, সুন্দর লাইব্রেরি গড়ে তোলার জন্য কী কী করণীয়ঃ

০১। স্থান ঠিক করে নিনঃ

আপনার শখের লাইব্রেরিটি কোন ঘরে হবে বা বুকশেলফটিকে ঘরের কোন কোণায় সেট করবেন, তা ঠিক করে নিন। প্রচুর আলো-বাতাস আছে এমন জায়গা বেছে নিলে ভাল হয়, বই পড়ার পরিবেশটি ভাল হওয়া বলে কথা। আর ঘরের ভেতরে অন্যান্য আসবাব খুব একটা না থাকলেই ভাল হয়। তাতে করে বুকশেলফটিকেই ঘরের মূল আকর্ষণ হিসেবে চোখে পড়বে সবার আগে।

০২। বই নির্বাচন করুনঃ

এবারে একটি লিস্ট তৈরি করুন আপনার সংগ্রহে থাকা সমস্ত বইগুলোর। কোন বইগুলো রাখবেন আর কোনগুলো রাখবেন না, সেটি ঠিক করুন। অপ্রয়োজনীয় বইগুলোকে তাহলে আলাদা করা সহজ হয়ে যাবে। যে বইগুলো রাখতে চাইছেন না, সেগুলো পুরনো বই বিক্রির দোকানে না সাইট যেমন নীলক্ষেত ডট কম বা বুক স্ট্রিটে বিক্রি করে দিতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি কাউকে দান করে দিতে পারেন। বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ইত্যাদিও সংগ্রহ করতে পারেন।

০৩। বুকশেলফ তৈরি করুন নিজের পছন্দেঃ

বইপত্রের পরিমাণ বুঝে একটি বুকশেলফ তৈরি করে নিন। হাল ফ্যাশান কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বুকশেলফের ডিজাইন বাছাই করতে পারেন। ঠিক যেরকম হলে লাইব্রেরিতে ঢোকা মাত্র আপনার মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে, ঠিক সেভাবেই তৈরি করুন আপনার বুকশেলফ। ঘরের কোন কোণায় শেলফটিকে রাখবেন, সেটিও ঠিক করে ফেলুন। শেলফের রঙও আপনার রুচি বুঝেই ঠিক করুন।

library-shelve

 

 

০৪। ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রঃ

বুকশেলফ কেমন হবে, তা নির্ধারণের পর ঘরের বাকি আসবাবপত্রের দিকে নজর দিন। বুকশেলফের সাথে দিব্যি মানিয়ে যাবে এমন আসবাব দেখে কিনুন। আয়েশ করে বই পড়ার জন্য আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সাথে একটি টেবিলও রাখতে পারেন পড়াশোনার জন্য। টেবিলের ওপর নান্দনিক ল্যাম্পশেড রেখে দিতে পারেন। অতিথিদের বসার স্থানও রাখতে পারেন। এক কোণে একটি ম্যাগাজিন স্ট্যান্ড দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন। আরাম কেদারা বা কাউচজাতীয় কিছু থাকলে পাশে একটি ছোট সাইড টেবিল রাখতে ভুলবেন না যেন। সাইড টেবিলের ওপর আপনার বুকমার্কের সংগ্রহও রেখে দিতে পারেন শো-পিসের পাশাপাশি! আর হ্যাঁ, ঘরের এক কোণে একটি বেতের ঝুড়ি বা ডেকোরেটিভ বিনও রাখতে পারেন।
বইঘরের দেয়ালে পছন্দের পেইন্টিং কিংবা প্রখ্যাত-কবি সাহিত্যিকদের ছবি ও উক্তির মিশেলে তৈরি কোলাজ করা ওয়ালম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের আরামদায়ক পড়ার পরিবেশ তৈরি করতে ঘরের দেয়াল এবং জানালা দরজার পর্দার রঙের দিকেও খেয়াল রাখবেন।

০৫। বুকশেলফের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুনঃ

বইয়ের ভার সামলানোর উপযোগী বুকশেলফ নির্বাচন করুন। প্রয়োজনে ডিজাইনারের সাহায্য নিন। আর বইপত্র ধুলো থেকে বাঁচাতে শেলফে কাঁচ লাগিয়ে নিয়ে পারেন।  আর দুষ্প্রাপ্য বইগুলোর নিরাপত্তায় শেলফে তালা লাগানোর ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

০৬। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখুনঃ

লাইব্রেরির জন্য আলো খুব বেশি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। দিনের বেলায় সূর্যের আলোই যথেষ্ট। সন্ধ্যায় বা রাতে পড়ার জন্য সাইড টেবিল ল্যাম্প এবং মাথার ওপরে লাইটিঙের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। দেয়ালের শিল্পকর্মকে ফুটিয়ে তুলতে অ্যাকসেন্ট লাইটিং ব্যবহার করতে পারেন। মাথার ওপরে ডিম লাইটের ব্যবস্থা থাকলে দাবা কিংবা বোর্ড গেম খেলতেও সুবিধা হবে।

০৭। ছাদ পর্যন্ত দেয়াল ব্যবহার করুনঃ

দেয়ালের পুরোটাই ব্যবহার করা যায়, যদি শেলফের জায়গা সীমিত থাকে। অর্থাৎ, শেলফের তাকগুলোকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ঘরের দরজার উপরের অংশটুকুও কাজে লাগানো যেতে পারে।

wall-to-wall

০৮। বাইরের দৃশ্য উপভোগের ব্যবস্থা রাখুনঃ

লাইব্রেরি ঘরের জানালা থেকে বাহিরের দৃশ্য দেখতে পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত নান্দনিক। এক, এতে বাহিরের আলো ঘরে পৌছায়। দুই, বই পড়তে পড়তে হঠাৎ বাহিরে চোখ গেলে মনকে খানিক বিশ্রাম দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

০৯। শেলফ গোছানোর পালাঃ

এবারে ঠিক করুন শেলফে বইগুলো ঠিক কীভাবে সাজিয়ে রাখবেন। অনেকভাবেই সাজানো যায়, যেমনঃ লেখকের নাম অনুসারে কিংবা বইয়ের মলাটের রং বা বর্ণ অনুসারে। বা গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ-উপন্যাস-নাটক এবং রাজনৈতিক, ধর্মীয়, ইতিহাস, হাস্যরস, প্রেম ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে সাজানো যেতে পারে। এতে করে বই সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।

১০। বইয়ের যত্নঃ

লাইব্রেরিতো হল। এবারে বইয়ের যত্ন নেবার পালা। তাপমাত্রা, আলো কিংবা আবহাওয়া ভেদে বইপত্রের সংবেদনশীলতা লক্ষণীয়। বিশেষ করে বইপত্র খুব অল্পেই কীটপতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হয়। সেজন্য বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে ন্যাপথলিন রাখা দরকার। আর নিয়মিত শেলফ পরিষ্কার করতে হবে। আর ভারি বইসমূহ যেন কাত হয়ে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ কাত হয়ে থাকলে বইয়ের বাঁধন খুলে পড়ে।

১১। শেলফ-সজ্জাঃ

শেলফ-জুড়ে বইয়ের মাঝখানে মাঝখানে আপনার শৌখিনতার প্রমাণ রাখতে কিছু সজ্জার ব্যবস্থা করতে পারেন। শেলফের খালি জায়গাগুলোতে নান্দনিক কোন শো-পিস কিংবা একটা ফুলদানি রেখে দিতে পারেন। শেলফের কাঁচটাকেও এক কোণে একটুখানি সাজিয়ে তুলতে পারেন গ্লাস পেইন্টিং হিসেবে। চমৎকার দেখাবে!

বইগুলোকে সোজা দাঁড় করিয়ে রাখতে আরও কিছু বই শুইয়ে দিতে পারেন দু’পাশে বুক এন্ড হিসেবে। আর বিজোড় সংখ্যায়ও সাজাতে পারেন বইগুলোকে। যেমনঃ একটি শেলফে তিনটি বই হলে আড়াআড়ি নিজের শেলফে দুটো। বাচ্চাদের বইগুলো সাধারণত বেশ লম্বা হয়। সেগুলোকে দাঁড় করিয়ে রাখা না গেলে শুইয়ে রাখতে পারেন।

নিন, লাইব্রেরি গোছানোতো হয়েই গেল। এবার আয়েশে গা এলিয়ে উপভোগ করুন বই পড়া। হ্যাপি রিডিং!

নুজহাত ফারহানা, লাইফস্টাইল ব্লগার 

আর্টিকেলটি ভাল লাগলে লাইক করুন, শেয়ার করুন। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।