ল্যাপটপে বেশিক্ষন চার্জ ধরে রাখার ১২ টি উপায় ও ১ টি ভুল যা আমরা সবসময় করি

Posted in: Crafts & DIY Nov, 10 2014 | Comments

যুগটাই পোর্টেবিলিটির, মোবিলিটির। খাস বাংলায় বললে বলতে হয় – “জঙ্গম যুগ”। আর তাই তো সবার হাতে হাতেই স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি, নেটবুক বা ল্যাপটপ। এই বহনযোগ্য ডিভাইস গুলোর ব্যাবহারেই সবাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এই মাত্র পাঁচ-ছয় বছর আগেরই বেশ জনপ্রিয় ডেস্কটপ পিসির জায়গা দখল করেছে ল্যাপটপ তার সর্বত্র বহনযোগ্যতা ও গতিশীলতা দিয়ে। যে কোন স্থানে বা On-The-Go মোডে কাজ করতেও সবার নির্ভরশীলতা এই ল্যাপটপের ওপরই।

laptop on charge

ল্যাপটপ ইউজারদের সার্বক্ষণিক চিন্তা থাকে ল্যাপটপের চার্জের স্থায়িত্ব নিয়ে। এক গাদা কাজের মধ্যে ল্যাপটপের চার্জ না ফুরিয়ে যায় তা নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়। সর্বক্ষন তো আর ল্যাপটপ চার্জে লাগিয়ে রাখা যায়না, আর অহরহ তো সবখানে পাওয়ার সকেট ও পাওয়া যায়না। ল্যাপটপ ব্যবহারে আমাদের প্রায়শঃই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাহলে কী করনীয় ?

কী করনীয় অর্থাৎ কি করলে ল্যাপটপের ব্যাটারির চার্জ থাকবে দীর্ঘক্ষন, ব্যাটারিটিও পাবে Longevity তারই ১১টি কার্যকরী উপায় জানিয়ে দিচ্ছি ঝটপট!

১। একটি ল্যাপটপ অনেক বেশি কার্যক্ষম থাকে যখন এটি অপেক্ষাকৃতভাবে ঠাণ্ডা থাকে, প্রচণ্ড গরম না হয়। ল্যাপটপ যত বেশি গরম, তত বেশী ইন্টারনাল ফ্যানগুলোর ঘূর্ণন, ততো বেশী ব্যাটারির চার্জ ব্যয়। ল্যাপটপ কুলার বা ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যাবহার করুন। কেননা বালিশ, বিছানা, গদি বা যেখানে গরম বাতাস পাস হতে পারেনা এমন কোন স্থানে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ল্যাপটপ আরও গরম হয়, যা ব্যাটারির ও ব্যাটারির চার্জ এর জন্য খুবই ক্ষতিকর।

২। যদি পারেন প্রতি ব্যাবহারের পর ল্যাপটপের ব্যাটারি খুলে রাখুন। এবং অবশ্যই প্রতি দু-তিন মাস অন্তর অন্তর ল্যাপটপের ব্যাটারি একটি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। এটি ব্যাটারি থেকে পাওয়ার ট্রান্সফার কে অনেক বেশী কার্যক্ষম রাখে।

৩। সিডি বা ডিভিডি ড্রাইভ অনেক বেশী চার্জ কনজিউম করে। তাই, সিডি বা ডিভিডি ড্রাইভের পরিবর্তে ল্যাপটপের হার্ড ড্রাইভ বেশী বেশী ব্যবহার করুন। সিডি বা ডিভিডি ড্রাইভের মধ্যে কোন সিডি বা ডিভিডি কাজ ব্যতীত অহেতুক ড্রাইভে রাখবেন না, কারন এতেও চার্জ কনজিউম হয়।

৪। যদি প্রয়োজন না হয়, তবে ওয়াইফাই (WiFi) অফ রাখুন। ওয়াইফাই সুইচ বা ওয়াইফাই সেটিংস থেকে অফ করতে পারবেন।

৫। ল্যাপটপের চার্জ বাঁচানোর জন্য “হাইবারনেশন” মোড “স্ট্যান্ডবাই” মোড হতে অনেক বেশী কার্যকরী। উল্লেখিত দুই মোড এই কাজ যে পর্যন্ত সংরক্ষন করা হয়েছিল ল্যাপটপ চালু করলে সেখান থেকেই কাজ পুনরায় শুরু করতে পারবেন। তাই “হাইবারনেশন” (Hibernation) মোড এ রাখাই শ্রেয়।

৬। ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্টে প্রয়োজন ব্যতীত এক্সটারনাল ডিভাইস লাগিয়ে রাখবেন না। এক্সটারনাল যে কোন ডিভাইস লাগিয়ে রাখলে তা প্রচুর চার্জ কনজিউম করে, তাই কাজ শেষ হলেই এক্সটারনাল ডিভাইস খুলে ফেলুন।

৭। ব্যাকগ্রাউন্ডে রানিং প্রোগ্রাম গুলো CPU এর উপর অতিরিক্ত লোড সৃষ্টি করে, ফলে ব্যাটারি চার্জ ও অনেক ব্যয় হয়। যখন ব্যাটারি মোডে আছেন, তখন যে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রোগ্রামগুলো অত্যন্ত প্রয়োজন নয় সেগুলো শাট ডাউন করে দিন।

৮। এটি ৭ নাম্বার পয়েন্টের সাথে সম্পর্কিত। ব্যাটারি মোডে থাকলে ল্যাপটপে মাল্টিটাস্কিং করবেন না, কেননা তা CPU র উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে চার্জ ব্যয় করে।

৯। ল্যাপটপ ডিসপ্লে, কিবোর্ড ব্যাকলাইট এর অনেক বেশী ব্যাটারি জুস প্রয়োজন হয়। নিজের সুবিধামত ল্যাপটপ এর ব্রাইটনেস কমিয়ে অ্যাডজাস্ট করুন, কিবোর্ড ব্যাকলাইট (যদি থাকে) অফ করে দিন।

১০। ল্যাপটপ বন্ধ করার পর ১০-১৫ মিনিট বাইরেই রাখুন, সাথে সাথে ব্যাগে না ঢুকিয়ে। এতে ব্যাটারি ও ল্যাপটপ ইন্টারনাল দ্রুত ঠাণ্ডা হতে পারে।

১১। (এই ভুলটি আমরা অনেক সময়ই করে থাকি) ল্যাপটপকে ওভারচার্জ করা যাবে না। আবার ল্যাপটপ ব্যাটারিকে একদম চার্জশুন্যও করা যাবে না। ব্যাটারিকে সবচেয়ে ভাল অবস্থায় রাখতে হলে চার্জ সম্পূর্ণ হয়ে গেলেই চার্জার কর্ড খুলে ফেলা উচিৎ। “ব্যাটারি ইউনিভার্সিটি”-র তথ্য অনুযায়ী ব্যাটারিকে সবচেয়ে ভালো রাখতে সর্বোচ্চ ৮০% চার্জ করে ব্যবহার এবং ৪০% চার্জ ব্যয় করেই পুনরায় চার্জ দিন।

১২। ল্যাপটপ ব্যাটারির কন্ডিশন মনিটর করেও আপনি ব্যাটারির চার্জ বাঁচাতে পারেন। অনেক অ্যাপ্লিকেশন আছে যা ব্যাটারির সম্পূর্ণ স্ট্যাটাস প্রদর্শন করে – ব্যাটারির বর্তমান অবস্থা, বর্তমান ব্রাইটনেস সেটিংসে ব্যাটারি কতক্ষন সাপোর্ট দিবে, সিপিইউ হার্ড ড্রাইভ টেম্পারেচার ইত্যাদি। অ্যাপ্লিকেশন রিডিং দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে বা সেটিং পরিবর্তন করে আপনি ব্যাটারির চার্জ দীর্ঘক্ষণ রাখতে পারেন।

একটি লিথিয়াম-আয়ন ল্যাপটপ ব্যাটারির সাধারন জীবনমেয়াদ হয় ১৮ মাস থেকে ২ বছর এবং তা একবারে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা চার্জ ব্যাকআপ দিতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী এই ব্যাটারি আরো ভালো পারফরম্যান্স করে যদি এর ব্যবহারকারী এটাকে যত্ন করে ব্যাবহার করে।

রেজাউর রহমান রবিন, ব্লগার

আর্টিকেলটি ভাল লাগলে লাইক করুন, শেয়ার করুন। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।