ডার্ক চকলেটের ৯টি অত্যন্ত গুণগত দিক (৮ নাম্বারটা স্ট্রেইঞ্জ)

Posted in: Health & Fitness Nov, 22 2014 | Comments

স্বাদের দিক থেকে তো অবশ্যই, স্বাস্থ্য ও গুনগত মানের জন্যও সবার কাছেই চকোলেটের কদর অনেক। আর এজন্যই বিভিন্ন উপাদেয় হিসেবে, কখনও বা বিভিন্ন পানীয়ের সাথে, আবার কখনও কখনও শুধুই খাওয়া হয়ে থাকে হরেক রকমের চকলেট।

Dark-Chocolate

চকোলেটের যেমন রয়েছে বিভিন্ন ব্যাবহার, তেমন রয়েছে বিভিন্ন প্রকারভেদ। আর তার মধ্যেই অন্যতম ও বহুল জনপ্রিয় দুটি হচ্ছে ডার্ক চকোলেট আর মিল্ক চকোলেট। তীব্র স্বাদের এই ডার্ক  চকলেটে চকোলেটের প্রধান উপকরণ কোকো থাকে পরিমানে একটু বেশীই – ৫০% থেকে ১০০% পর্যন্ত; যেখানে মিল্ক চকলেটে থাকে মাত্র ৩০%। এই কোকোর পরিমানের অনুপাতেই স্বাদের তীব্রতার তারতম্য হয় ডার্ক চকলেট এ।

স্বাদে যেমন রয়েছে বৈচিত্র্য, তেমনি গুনগত মানে ও স্বাস্থ্যমানেও রয়েছে ডার্ক চকোলেটের বহুমাত্রিকতা। বিজ্ঞানীরা এর যে প্রধান প্রধান উল্লেখযোগ্য উপকারী বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছেন, তারই ৯ টি জেনে নিন চটপট –

হার্ট ও রক্তচাপের জন্য ভাল

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার অল্প পরিমানে ডার্ক চকলেট খেলেও তা আপনার ব্লাড প্রেশার মানে রক্তচাপকে কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত রাখতে সহযোগিতা করে। শরীরের আভ্যন্তরীণ রক্ত জমাট রোধ করে রক্তপ্রবাহ নির্মল রাখতেও ডার্ক চকলেট এর ভুমিকা আছে। যাদের রক্তচাপ কম থাকে তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে রক্তচাপের ভারসাম্য রাখতেও ডার্ক চকলেট এর একটি উপাদান Polyphenols কার্যকর।

রক্তধমনী ভালো রাখতে

রক্তধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার যে ভয়াবহ ও জটিল রোগ Arteriosclerosis তা প্রতিরোধ করতে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখে ডার্ক চকলেট।

মস্তিষ্কের জন্যও উত্তম

ডার্ক চকলেট খেলে একজন ব্যক্তির Cognitive Function এর উন্নতি ঘটে। যেহেতু মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহের উন্নতি সাধনে ডার্ক চকলেট ভুমিকা রাখে, ব্রেইনস্ট্রোক প্রতিরোধেও এটি কার্যকরী।

মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতকরণ

ডার্ক চকলেট এ এমন কিছু কেমিক্যাল উপাদান থাকে যা Cognitive Health বা মানসিক অবস্থার উপর কল্যাণকর প্রভাব ফেলে। ডার্ক চকলেট খেলে মস্তিষ্ক থেকে Endorphins হরমোন নিঃসৃত হয়, যা একজন ব্যক্তিকে সুখী ও পুলকিত অনুভব করায়।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারী

রক্তের কোলেস্টেরল দুই প্রকার – ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরল আর উপকারী LDH কোলেস্টেরল। ডার্ক চকলেট দেহের জন্য ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরলকে দূর করে এবং একই সাথে দেহের উপকারী LDL কোলেস্টেরল ও বাড়িয়ে দিয়ে থাকে।

ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে

রক্তকণিকাগুলোকেও ডার্ক চকলেট পরিষ্কার রাখে, ফলে রক্তকণিকার সুষ্ঠু সংবহন সুনিশ্চিত হয়। ডার্ক চকোলেটের Low Glycemic Index ও Flavonoids রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়তে না দিয়ে মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি ও বয়সের ছাপ কমায়

ডার্ক চকলেট এ অনেক পরিমানে Antioxidant থাকে। আর এই Antioxidant এ ভরপুর খাদ্যগ্রহন বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ও বয়স হয়ে যাওয়ার লক্ষ্মণগুলো প্রতিরোধ করে।

মুখ ও দাঁতের জন্য ভাল

ডার্ক চকলেট এ Theobromine থাকে। আর এজন্যই যেখানে অন্য মিষ্টিজাতীয় খাবার দাঁত, মাড়ি ও মুখের ক্ষতি করে, সেখানে ডার্ক চকলেট মুখসংক্রান্ত স্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন করে।

ভিটামিন ও মিনারেল এ পরিপূর্ণ

ডার্ক চকোলেট এ ব্যাপক পরিমানে পটাশিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং আরও অনেক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বিদ্যমান। আর এই উপাদানগুলো স্ট্রোক ও হৃদরোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি প্রতিহত করে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

আর এই এত গুনের জন্যই দক্ষিন আফ্রিকা সহ অনেক দেশেই ডার্ক চকোলেট কে ওষুধ হিসেবেও সেবন করা হয়। আপনিও এই ব্যাপারে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

রেজাউর রহমান রবিন, ব্লগার

আর্টিকেলটি ভাল লাগলে লাইক করুন, শেয়ার করুন। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।